পুত্রদা_একাদশী_মাহাত্ম্য
#যুধিষ্ঠির বললেন- হে কৃষ্ণ ! পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর
নাম কি ?
বিধিই বা কি, কোন
দেবতা ঐ দিনে পূজিত হন এবং আপনি কার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সেই ব্রতফল প্রদান
করেছিলেন কৃপা করে আমাকে সবিস্তারে বলুন ।
#ভদ্রাবতী পুরীতে সুকেতুমান নামে এক রাজা ছিলেন । তাঁর রানীর নাম ছিল শৈব্যা। রাজদম্পতি বেশ সুখেই দিনযাপন করছিলেন । বংশরক্ষার জন্য বহুদিন ধরে ধর্মকর্মের অনুষ্ঠান করেও যখন পুত্রলাভ হল না,তখন রাজা দুশ্চিন্তায় কাতর হয়ে পড়লেন । তাই সকল ঐশ্বর্যবান হয়েও পুত্রহীন রাজার মনে কোন সুখ ছিল না । তিনি ভাবতেন--পুত্রহীনের জন্ম বৃথা ও গৃহশূন্য । পিতৃ-দেব
—মনুষ্যলোকের কাছে যে ঋণ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে,তা পুত্র বিনা পরিশোধ হয় না । পুত্রবানজনের এ জগতে যশলাভ ও উত্তম গতি লাভ হয় এবং তাদের আয়ু,আরোগ্য ,সম্পত্তি প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে । নানা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ রাজা আত্মহত্যা করবেন বলে স্থির করলেন । কিন্তু পরে বিচার করে দেখলেন --'আত্মহত্যা মহাপাপ,এর ফলে কেবল দেহের বিনাশমাত্র হবে,কিন্তু আমার পুত্রহীনতা তো দূর হবে না । তারপর একদিন রাজা নিবিড় বনে গমন করলেন । বন ভ্রমণ করতে করতে দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত হলে রাজা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অত্যন্ত কাতর হলেন । এদিক ওদিক জলাদির অনুসন্ধান করতে লাগলেন । তিনি চক্রবাক,রাজহংস এবং নানারকম মাছে পরিপূর্ণ একটি মনোরম সরোবর দেখতে পেলেন । সরোবরের কাছে মুনিদের একটি আশ্রম ছিল । তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন । সরোবর তীরে মুনিগণ বেদপাঠ করছিলেন । মুনিবৃন্দের শ্রীচরণে তিনি দণ্ডবৎ প্রণাম করলেন। মুনিগণ রাজাকে বললেন--হে মহারাজ ! আমরা আপনার প্রতি প্রসন্ন হয়েছি । আপনার কি প্রার্থনা বলুন । রাজা বললেন-- আপনারা কে এবং কি জন্যই বা এখানে সমবেত হয়েছেন ?#মুনিগণ বললেন--হে মহারাজ ! আমরা 'বিশ্বদেব' নামে প্রসিদ্ধ । এই সরোবরে স্নান করতে এসেছি । আজ থেকে পাঁচদিন পরেই মাঘ মাস আরম্ভ হবে । আজ পুত্রদা একাদশী তিথি । পুত্র দান করে বলেই এই একাদশীর নাম 'পুত্রদা' তাঁদের কথা শুনে রাজা বললেন--হে মুনিবৃন্দ ! আমি অপুত্রক । তাই পুত্র কামনায় অধীর হয়ে পড়েছি । এখন আপনাদের দেখে আমার হৃদয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে । এ দুর্ভাগা পুত্রহীনের প্রতি অনুগ্রহ করে একটি পুত্র প্রদান করুন । মুনিগণ বললেন—হে মহারাজ ! আজ সেই পুত্রদা একাদশী তিথি । তাই এখনই আপনি এই ব্রত পালন করুন ।
ভগবান শ্রীকেশবের অনুগ্রহে অবশ্যই আপনার পুত্র লাভ হবে । মুনিদের কথা শোনার পর যথাবিধানে রাজা কেবল ফলমূলাদি আহার করে সেই ব্রত অনুষ্ঠান করলেন । দ্বাদশী দিনে উপযুক্ত সময়ে শস্যাদি সহযোগে পারণ করলেন । মুনিদের প্রণাম নিবেদন করে নিজগৃহে ফিরে এলেন । ব্রতপ্রভাবে রাজার যথাসময়ে একটি তেজস্বী পুত্র লাভ হল ।
হে মহারাজ ! এ ব্রত সকলেরই পালন করা কর্তব্য ।
মানব কল্যাণ কামনায় আপনার কাছে আমি এই ব্রত কথা বর্ণনা করলাম । নিষ্ঠাসহকারে যারা
এই পুত্রদা একাদশী ব্রত পালন করবে,তারা
'পুত' নামক
নরক থেকে পরিত্রাণ লাভ করবে । আর এই ব্রত কথা শ্রবণ—কীর্তনে
অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল পাওয়া যায় । ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে এই মাহাত্ম্য বর্ণনা করা
হয়েছে
।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।সাথেই থাকুন, উপকারী মনে করলে অবশ্যই শেয়ার করুন। হরেকৃষ্ণ।