#অপরা_একাদশী_মাহাত্ম্য:
জৈষ্ঠ্য মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিকে অপরা একাদশী বলা হয়। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর ৬ জুন, রবিবার অপরা একাদশী। অপরা এর অর্থ অপার পুণ্য। পদ্ম পুরাণ অনুযায়ী, এদিন বামন রূপে বিষ্ণুর পুজোর বিধান রয়েছে। অপরা একাদশীকে জলক্রীড়া একাদশী, অচলা একাদশী ও ভদ্রকালী একাদশীও বলা হয়।
মনে করা হয় অপরা একাদশী ব্রত করলে বিষ্ণু মনুষ্য জীবন থেকে সমস্ত দুঃখ ও সমস্যা দূর করে অপার পুণ্য প্রদান করে। এই একাদশী পুণ্যদায়ক ও বড় বড় পাপ নাশ করে। অপরা একাদশীর ব্রতর প্রভাবে ব্রহ্ম হত্যা, ভূত যোনি, অন্যের নিন্দা, পরস্ত্রীগমন, মিথ্যা সাক্ষী, মিথ্যা ভাষণ, মিথ্যা শাস্ত্র পাঠ অথবা রচনা, মিথ্যা জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা বা মিথ্যা বৈদ্য হওয়ার পাপ করলে তা নষ্ট হয়। মাঘ মাসে সূর্য যখন মকর রাশিতে বিরাজ করে তখন প্রয়াগে স্নান করলে ব্যক্তি যে পুণ্য লাভ করে, কাশীতে শিবরাত্রি ব্রত করলে যে পুণ্য লাভ করা যায়, গয়ায় পিণ্ডদান করে পূর্বপুরুষদের তৃপ্তি প্রদানকারী ব্যক্তি যে পুণ্য অর্জন করে, বৃহস্পতির সিংহ রাশিতে বিরাজ করার ফলে গোদাবরীতে স্নান করে ব্যক্তি যে ফল লাভ করে ঠিক এমনই অপর একাদশী ব্রত পালন করেও ব্যক্তি এমনই ফল লাভ করতে পারে। এই একাদশীর দিনে উপবাস করে এবং মাহাত্ম্যের গুণগান করলে সহস্ত্র গোদানের ফল লাভ করা যায়।
অপরা
একাদশীর শুভক্ষণ:
একাদশী
তিথি শুরু- ৫ জুন ভোর ৪টে ০৭ মিনিটে।
একাদশী
তিথি সমাপ্ত- ৬ জুন সকাল ৬টা ১৯ মিনিটে।
পারনের সময়- ৭ জুন সকাল ৫টা ০৭ মিনিট থেকে ৯টা ২১ মিনিট।
অপরা
একাদশী ব্রত বিধি:
এদিন
সূর্যদয়ের পূর্বে উঠে স্নান করে উপবাসের সংকল্প গ্রহণ করুন। এর পর বিষ্ণুর পুজো
করুন। এদিন অন্ন গ্রহণ করবেন না। ফলাহার করতে পারেন। সন্ধেবেলা বিষ্ণুর পুজো করুন।
বিষ্ণু সহস্ত্রনাম পাঠ করুন। পরের দিন নিয়মানুযায়ী ব্রত ভঙ্গ করুন।
মনে
রাখবেন হরি বাসরের সময় একাদশী উপবাস ভঙ্গ করতে নেই। উপবাস ভঙ্গ করার আগে হরিবাসর
সমাপ্ত হওয়ার প্রতীক্ষা করুন। দ্বাদশী তিথির প্রথম এক চতুর্থাংশ সময়কাল এই
হরিবাসর। ব্রতভঙ্গের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় প্রাতঃকাল। মধ্যাহ্নে ব্রতভঙ্গ করা উচিত
নয়।
অপরা একাদশী ব্রতকথা:
শাস্ত্র
মতে, প্রাচীন কালে মহীধ্বজ নামক এক ধর্মাত্মা রাজা ছিলেন। তাঁর ছোট ভাই
বজ্রধ্বজ পাপী ও অধর্মী ছিল। রাতের অন্ধকারে নিজের বড় দাদার হত্যা করে দেয়
বজ্রধ্বজ। এর পর মহীধ্বজের মৃত শরীরকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে অশ্বত্থ গাথের তলায় পুঁতে
দেয়। অকাল মৃত্যুর কারণে ধর্মাত্মা রাজাকে প্রেত যোনিতে প্রবেশ করেন। প্রেত রূপে
সেই অশ্বত্থ গাছে বাস করতে শুরু করেন রাজা। সেই পথে যে-ই যাতায়াত করত, তাঁদের
বিরক্ত করত ওই প্রেত। একদিন সৌভাগ্যবশত সেই পথ দিয়ে ধৌম্য নামক এক ঋষি যান। ঋষি
প্রেতকে দেখে নিজের তপোবলে সব জানতে পারেন। রাজাকে প্রেত যোনি থেকে মুক্তি দেওয়ার
কথা ভাবেন ওই ঋষি। তার পর প্রেতকে অশ্বত্থ গাছ থেকে নামিয়ে পরলোক বিদ্যার উপদেশ
দেন। সংযোগবশত সেই সময় জৈষ্ঠ্য মাসের একাদশী তিথি ছিল। ঋষি অপরা একাদশী ব্রত করেন।
সেই উপবাসের ফলে প্রাপ্ত পুণ্য তিনি রাজাকে অর্পণ করেন। এই পুণ্যের প্রভাবে রাজা
প্রেত যোনি থেকে মুক্ত হন এবং দিব্য দেহ ধারণ করে স্বর্গে গমন করেন।
জয়
শ্রীকৃষ্ণ।
বি:দ্র: প্রয়োজনীয় ও উপকারী মনে করলে অবশ্যই
শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিবেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।সাথেই থাকুন, উপকারী মনে করলে অবশ্যই শেয়ার করুন। হরেকৃষ্ণ।